Articles published in Daily Amardesh.
এক্সরে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা পদ্ধতি যার সাহায্যে একজন চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করে থাকেন। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরে ছাড়া রোগ নির্ণয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে অকল্পনীয় ব্যাপার।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের সুবাদে আজকাল এক্সরেরও বিভিন্ন ধরন এবং প্রকৃতি চালু হয়েছে। কিন্তু এই এক্সরে নিয়ে অনেকের মধ্যে বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মাঝে অনেক ভুল ধারণা বিরাজমান। এই ধারণা অবশ্য শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষের মাঝেই বেশি প্রচলিত। আবার কিছু মা ঝড়েবক বিজ্ঞাপন
নুষ আছেন যারা রেডিয়েশনের ভয়ে এক্স-রে করাতে একেবারেই রাজি হন না। চিকিৎসকদের পীড়াপীড়িতে রাজি হলেও বিভিন্ন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন চিকিৎসকের প্রতি-এক্সরে করা কি নিরাপদ? কতটা পর্যন্ত এক্সরে করা যায় এবং কদিন পরপর বিনা ঝুঁকিতে এক্সরে করা যায়? অনেক সময় চিকিৎসকও উত্তর দিতে বিব্রত বোধ করেন। তাই এ ব্যাপারে জনসাধারণের একটা সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। সাধারণত দুই মাস পর এক্সরে করা হলে খুবই একটা ক্ষতির ঝুঁকি থাকে না। তবে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ছয়মাস পর পর এক্সরে করলে ঝুঁকি থাকে না। অনেকে প্রশ্ন করেন-বছরে কটি এক্সরে করা যায়? এর উত্তরে বলতে হয়, বছরে ৪/৫টা এক্সরে করা যেতে পারে। অনেকে রেডিয়েশনের ভয়ে মাথার এক্সরে করাতে রাজি হন না। এটা ভুল ধারণা। মাথার এক্সরে করলে আলাদা কোনো ঝুঁকি থাকে না। তবে একটা কথা সত্য, জটিল চিকিৎসার প্রয়োজনে অনেক সময় ঘন ঘন এক্সরে করতে একজন চিকিৎসক বাধ্য হন। তখন রেডিয়েশনের ভয় করে বসে থাকলে চলে না। রোগীর তাৎক্ষণিক জীবনরক্ষা তখন প্রয়োজন। অতিমাত্রায় রেডিয়েশন ক্যাসারের নিয়ামক এবং সহায়ক হিসেবে কাজ করে। আজকাল রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি গড়ে উঠছে, যদিও ওদের অনেকেই রেডিয়েশনের বিপদ সম্পর্কে সচেতন। তবুও অনুরোধ করব, এক্সরে করার কক্ষটি এমনভাবে যেন তৈরি করা হয় যাতে রেডিয়েশন পাশের কামড়ায় প্রবেশ করতে না পারে; কারণ অনেক ল্যাবরেটরিই আছে, যেগুলো শপিং মার্কেটের অভ্যন্তরে অবস্হিত। তবে সরাসরি রেডিয়েশনের মাত্রা ২০ থেকে ৩০ ফুটের পরে অনেক কমে আসে এবং বিপদের ঝুঁকি থাকে না।
**********************
লেখকঃ অধ্যাপক ডা. ইকবাল মাহমুদ
দৈনিক আমারদেশ পত্রিকায় ১৭ নভেম্বর ২০০৭ এ প্রকাশিত