স্বাস্থ্যকথা - http://healthz.info
ঘাতক ভাইরাস : হেপাটাইটিস-বি
http://healthz.info/articles/2254/1/iaaaa-aaaaaa--aaaaaaaaaa-aa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/8/2010
 
বিশ্বে হেপাটাইটিসকে একটি মারাত্মক রোগ বলা হয়ে থাকে। ভাইরাসের কারণে হয় বলে একে ভাইরাল হেপাটাইটিস বলা হয়। সাধারণ অর্থে হেপাটাইটিস বলতে লিভার ফুলে যাওয়াকে বোঝানো হয়। এর ফলে দেখা দেয় লিভারে ইনফেকশন, সঙ্গে ইমিউন সিস্টেমের অবনতি এবং একপর্যায়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে লিভার। হেপাটাইটিস ৫টি ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে। ভাইরাসগুলো হচ্ছে—হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, হেপাটাইটিস-ডি এবং হেপাটাইটিস-ই।

ঘাতক ভাইরাস : হেপাটাইটিস-বি
বিশ্বে হেপাটাইটিসকে একটি মারাত্মক রোগ বলা হয়ে থাকে। ভাইরাসের কারণে হয় বলে একে ভাইরাল হেপাটাইটিস বলা হয়। সাধারণ অর্থে হেপাটাইটিস বলতে লিভার ফুলে যাওয়াকে বোঝানো হয়। এর ফলে দেখা দেয় লিভারে ইনফেকশন, সঙ্গে ইমিউন সিস্টেমের অবনতি এবং একপর্যায়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে লিভার। হেপাটাইটিস ৫টি ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে। ভাইরাসগুলো হচ্ছে—হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, হেপাটাইটিস-ডি এবং হেপাটাইটিস-ই।

হেপাটাইটিস-বি কি
হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের (এইচবিভি) কারণে হয় বলে একে হেপাটাইটিস-বি বলা হয়। এ রোগের দু’টি অবস্থা রয়েছে—অ্যাকিউট এবং ক্রনিক। অ্যাকিউট হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সঠিক চিকিত্সায় খুব দ্রুত সেরে ওঠে। কেউ কেউ সারাজীবন এতে আক্রান্ত হলেও লিভারে কোনো রোগ নাও দেখা দিতে পারে। কিন্তু ক্রনিকের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ বিপরীত। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে ক্রনিক হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত রোগীরা।

এ রোগ কতটা মারাত্মক?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে ২শ কোটির বেশি লোক হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি লোক এ রোগের জীবাণু দীর্ঘমেয়াদিভাবে বহন করছে। প্রতিবছর ২০ লাখ মানুষ এ ভাইরাসজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে অ্যাকিউট হেপাটাইটিস-বি আক্রান্ত রোগীর সমস্যাগুলো জটিল মনে না হলেও এটি সুনিশ্চিত যে, যতদিন অ্যাকিউট হেপাটাইটিস রোগীর রক্তে এ ভাইরাস থাকবে, ততদিন এসব রোগী কোনোভাবেই আশঙ্কামুক্ত নয়। এমন কোনো প্রতিরোধক বা চিকিত্সা ব্যবস্থা নেই যে অ্যাকিউট হেপাটাইটিস-বি একপর্যায়ে ক্রনিক হেপাটাইটিস-বি রোগে পরিণত হবে না। ক্রনিক হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস হচ্ছে লিভার সিরোসিসের অন্যতম প্রধান কারণ। এ অবস্থা যে কোনো বয়সে হতে পারে এবং এতে মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। হেপাটাইটিস-বি-তে আক্রান্ত রোগীর শতকরা ৯০-৯৫ ভাগ রোগী শুধু অ্যাকিউট অবস্থায় থাকে আর বাকি ৫-১০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ক্রনিক ইনফেকশন দেখা দেয়। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, ক্রনিক এইচবিভি-তে আক্রান্ত রোগীরা খুব সহজেই মরে যায় না কিংবা অসুস্থ হয় না। কিন্তু খুব দ্রুত এরা ভাইরাস সংক্রমণ করে থাকে। ক্রনিক হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস এক ধরনের লিভার ক্যান্সারের মানুষকে আক্রান্ত করে ফেলতে পারে। এ ধরনের লিভার ক্যান্সারকে বলা হয়ে থাকে হেপাটোসেলুলার কারসিনোমা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, প্যাসিফিক আইল্যান্ডসহ দক্ষিণ আমেরিকার কীয়দংশে এ রোগের সংক্রমণ খুবই মারাত্মক।

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস যেভাবে ছড়ায়
— রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে এ ভাইরাস আমাদের শরীরে ঢোকে। তাই রক্তদাতাদের শরীরে এ ভাইরাস থাকলে তা রক্তগ্রহীতার শরীরে ঢুকে যাবে।
— একাধিক ইনজেকশন ব্যবহারে এই রোগ ছড়াতে পারে। উল্লেখ্য, ইনজেকশনে নেশাদ্রব্য গ্রহণকারীদের অধিকাংশই হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত থাকে।
— আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত সুচ, যে কোনো ডাক্তারি যন্ত্রপাতি, সুস্থ ব্যক্তির দেহে ব্যবহার করলে তাতে ভাইরাস ছড়াতে পারে।
— আকুপাংচারের যন্ত্রপাতি ভালোভাবে স্ট্যারিলাইজ করা না হলে ভাইরাস ছড়াতে পারে।
— জৈবিক মিলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ছড়াতে পারে। অসামঞ্জস্য শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে।
— মানুষের লালা, প্রস্রাব, শুক্র ও যৌন রোগের মাধ্যমেও এ ভাইরাস ছড়ায়।
— মায়ের দেহে এ ভাইরাস থাকলে নবজাতকের দেহেও তা ছড়িয়ে যেতে পারে।
— এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, স্তনদান করলে, হাত মিলালে কিংবা পানি বা খাবার খাওয়ার মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়ায় না।

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের লক্ষণগুলো
হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের লক্ষণ প্রথমেই বোঝা যায় না। ভাইরাস আক্রমণের ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জ্বরই হচ্ছে প্রথম লক্ষণ। এ কারণে অনেকে প্রথমে একে একটি সাধারণ জ্বর বলে ভেবে থাকে। হেপাটাইটিস-বি’র কথা চিন্তাই করে না। পরবর্তী সময়ে যেসব লক্ষণ দেখা যায় তা হলো—
- খাদ্যে অরুচি
- দুর্বলতা
- জ্বর ও বমি
- শরীর চুলকাবে
- লিভারে ব্যথা করবে
- জন্ডিস
- পেট ব্যথা।
- প্রস্রাব চায়ের মতো কালচে হয়ে যাবে
- পায়খানা ধূসর রং হবে
- রক্তস্বল্পতা
- ওজন কমবে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস ডায়াগনোসিস করা যায়। খাদ্যে অরুচি, সঙ্গে অস্বাভাবিক বমি হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। পরীক্ষায় যদি ক্রনিক হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস শনাক্ত হয়ে থাকে তবে নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপে থাকা প্রয়োজন। যদি লিভারে সমস্যা মনে হয় তবে আল্ট্রাসাউন্ড কিংবা লিভার বায়োপসিও করা প্রয়োজন হতে পারে।

হেপাটাইটিস ‘বি’-এর চিকিত্সা
অ্যাকিউট হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিত্সা পদ্ধতি নেই। এ ক্ষেত্রে রয়েছে সাধারণ এক চিকিত্সা ব্যবস্থা, যা ব্যক্তিগতভাবে করা হয়ে থাকে। এ সময় বিশ্রাম, সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত ও প্রচুর পরিমাণে পানি এবং পানিজাতীয় দ্রব্য পান করতে হবে। তবে বমির তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে কিংবা ডায়রিয়া দেখা দিলে হাসপাতালে রোগীকে ভর্তির মাধ্যমে চিকিত্সা দেয়া যেতে পারে। আর ক্রনিক হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করতে হবে এবং লিভারবিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিত্সক ইন্টারফেরন ইনজেকশন ব্যবহার করে থাকেন। কারণ এখন পর্যন্ত ইন্টারফেরনই হচ্ছে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের চিকিত্সার জন্য একটি আদর্শ এন্টিভাইরাল চিকিত্সাব্যবস্থা। তবে লিভার সিরোসিস কিংবা লিভারের বড় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে এন্টিভাইরাল হিসেবে লেসিভুডাইন দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া অ্যাডিশোবির (হেপসেরা) এন্টিবডির (বারাফ্লুড) নামক অন্যান্য এন্টিভাইরাল ড্রাগসও ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়গুলো
যে কোনো রোগের চিকিত্সা থেকে প্রতিরোধ ব্যবস্থাই উত্তম। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য রয়েছে ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন খুবই নিরাপদ যা রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ৩টি ইনজেকশন ডোজ আকারে কয়েক মাসের মধ্যে দেয়া হয়। ১৯ বছরের বেশি বয়সের সবার জন্য এ ভ্যাকসিন প্রযোজ্য।
যাদের হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন জরুরি

- ১৯ বছর বয়সী যে কোনো ব্যক্তির জন্য।
- সেসব নবজাতক শিশু যাদের মা হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত ।
- চিকিত্সক স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা যে কোনো স্বাস্থ্য পরিচর্যায় নিযুক্ত ব্যক্তি।
- হেমোফিলিয়া বা রক্তের অস্বাভাবিক জটিলতায় আক্রান্ত রোগী।
- কিডনি ডায়ালাইসিসকৃত রোগী।
- আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ভ্রমণকারী।
- জেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
- মাদকদ্রব্য গ্রহণকারী।
- ক্রনিক লিভারডিজিজ আক্রান্ত রোগী।
- বহু কিংবা অসামাঞ্জস্য শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকারী ব্যক্তি।

**************************
দৈনিক আমার দেশ, ০২ র্মাচ ২০১০।