স্বাস্থ্যকথা - http://healthz.info
আথ্রাইটিসের ব্যথা
http://healthz.info/articles/1479/1/aaaaaaaaaaa-aaaaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/8/2009
 
সারা পৃথিবীতে আথ্রাইটিসে কত জন ভুগছেন এ পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই, এ দেশের পরসংখ্যানেও নেই, তবে ২০০৫ সালের আমেরিকার একটি পরিসংখ্যান হাতের কাছে এখন আছে, ৬৬ মিলিয়ন পূর্ণ বয়স্ক লোক, তিনজনে একজনের এ সমস্যা আছে। কারো রোগ নির্ণয় হয়েছে কেউ কেউ হাড়ের গিটে ব্যথা ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে আছেন, রোগ চিহ্নিত হয়নি।

আথ্রাইটিসের ব্যথা

সারা পৃথিবীতে আথ্রাইটিসে কত জন ভুগছেন এ পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই, এ দেশের পরসংখ্যানেও নেই, তবে ২০০৫ সালের আমেরিকার একটি পরিসংখ্যান হাতের কাছে এখন আছে, ৬৬ মিলিয়ন পূর্ণ বয়স্ক লোক, তিনজনে একজনের এ সমস্যা আছে। কারো রোগ নির্ণয় হয়েছে কেউ কেউ হাড়ের গিটে ব্যথা ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে আছেন, রোগ চিহ্নিত হয়নি।

যদিও কয়েক ধরনের আথ্রাইটিস যেমন-অস্টিও আথ্রাইটিস বয়সের সঙ্গে বাড়ে, সব ধরনের আথ্রাইটিসে যারা ভুগেন এদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি লোকের বয়স ৬৫ বছরের কম। বিশেষত পঙ্গুত্বে একটি বড় কারণ যে আথ্রাইটিস, এতে সন্দেহ নেই।

আথ্রাইটিস হলে বেশ ব্যথা হয়, জীবনে উপভোগের সব কাজ থেকে বিরতি ঘটাতে এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। আপনি রাধতে ভালোবাসেন বা গলফ খেলতে ভালোবাসেন, এতেও বাধ সাধে আথ্রাইটিস। তবে এজন্য মন খারাপ করা কেন? আথ্রাইটিস থাকলেও কিছু করার আছে ভালো থাকার জন্য। হাড়ের গিটের সুরক্ষা। ব্যথার উপশম। সচলতা বাড়ানো। কৌশলগুলো ক্ষেত্রভেদে নানারকম হতে পারে।

হাড়কে রক্ষা করার কৌশলসমূহঃ

আথ্রাইটিস থাকলে দেহের সংকেতগুলোতে সাড়া দিতে হয়। আথ্রাইটিস আক্রান্ত গিটগুলোর অতি ব্যবহার হলে ব্যথা হতে পারে, ফুলতে পারে, গিটের আরো ক্ষতি হতে পারে। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট শেখাতে পারেন কি করে শক্তি সংরক্ষণ করতে হয়, গিটের সুরক্ষা করতে হয়, দৈনন্দিন কাজকর্ম কিভাবে আরো সহজে সম্পন্ন করা যায়, জীবন-যাপনে যে ব্যাঘাত ঘটে এর সঙ্গে কি করে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। এসব অনেক কৌশল সাধারণ বুদ্ধি খরচ করেও করা যায়।

চলতে থাকুন, হোন চলমানঃ

দীর্ঘক্ষণ এক স্থানে অবস্থান ভালো না। কাজ করছেন ডেস্কে, অফিসে প্রতি ১৫ মিনিট পর পর উঠে দাঁড়ান ও হাত-পা ছোঁড়াছুটি করুন। বাসায় বসে থাকলে বা টিভি দেখলেও একই অভ্যাস চালিয়ে যাবেন।

চাপ এড়িয়ে যানঃ

হাড়ের ওপর বাড়তি চাপ দিতে পারে এমন দেহভঙ্গি বা নড়নচড়ন এড়িয়ে যাওয়া ভালো। যেমন-হাতে আথ্রাইটিস থাকলে বোয়ামের আটা শক্ত ঢাকনি খোলা কঠিন হতে পারে। একটি সমাধান হল, বোয়ামকে একটি কাপড়ের ওপর রেখে, তালু দিয়ে বোয়ামে চাপ দিন, আর স্কন্ধের নড়নের মাধ্যমে ঢাকনিটি খোলা যেতে পারে। এর চেয়ে ভালো বোয়াম বা জার ওপেনার দিয়ে ঢাকনি খোলা।

নিজের শক্তি আবিষ্কার করুনঃ

নিজের সবচেয়ে সবল হাড়ের গিট ও পেশি ব্যবহার করতে হয়। আঙ্গুল ও কব্জির গিটের রক্ষার জন্য ভারি দরজা খুলতে হয় বাহু বা কাঁধ দিয়ে। সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় নিতম্ব বা জানুকে রক্ষার জন্য সবল পা’টি প্রথমে উঠানো এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল পা নিচে নামানো-এভাবে চলতে হবে।

আগেই করুন পরিকল্পনাঃ

জীবনকে যতদূর সম্ভব সরল-সহজ করে নিতে হবে। অনাবশ্যক কাজকর্ম বাদ দেয়া ভালো যেমন-ইস্ত্রি করতে হয় এমন জামা-কাপড় না কিনলে ভালো। কাজের জায়গা ও ডাক্তারকে সাজানো গোছানো ভালো। পুনঃপুনঃ ব্যবহারযোগ্য জিনিসগুলো হাতের কাছে সংরক্ষণ করা উচিত। নানা স্থানে কিছু গেরস্থালি জিনিস দুটো দুটো করে রাখা উচিত, যেমন রান্নাঘর ও প্রতিটি স্নানঘরে ধোয়া-পাক্‌লার জিনিস রাখা উচিত।

শ্রম কম হয় এমন জিনিস ব্যবহার করা উচিতঃ

রান্নাঘরে বৈদ্যুতিক ফ্যান ওপেনার ও মিক্সার থাকবে। স্নানঘরে মেঝে ঘষা-মাজা এড়াতে স্বয়ংক্রিয় টয়লেট বাউল ক্লিনার ও নানারকমের আধুনিক গ্যাজেট ব্যবহার করতে হয়।

-নানারকমের সহায়ক কিট ব্যবহারঃ

অনাবশ্যক নুয়ে পড়া, শরীরকে বাঁকানো, ঝাকানো এসব এড়াতে নানান কৌশলযন্ত্র ব্যবহার করা যায়। লম্বা হাতলওয়ালা গ্রিপার দিয়ে হাত থেকে দূরে ব‘কে ধরা ও কাছে টানা যায়।

ঘরেও কিছু পরিবর্তনঃ

বিভিন্ন রকম হোম কিট্‌ দিয়ে গেরস্থালি কাজ সহজ করা যায়।

সাহায্য চাইবেন প্রয়োজনেঃ

স্বনির্ভর থাকা আত্মমর্যাদার জন্য প্রয়োজন বটে তবে যে কোনো মূল্যে নির্ভরশীল একেবারেই না হওয়াও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রোগ সম্বন্ধে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদেরকে জানালে এবং নিজের সীমাবদ্ধতা জানালে সহায়তা প্রয়োজনে পাবেন যা বিপদ এড়াতে অনিবার্য হয় অনেক সময়।

**************************
অধ্যাপক ডাঃ শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস,
বারডেম, ঢাকা।
দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ মার্চ ২০০৯।